প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মাহবুবুল হক শেরীন

গত ২৪ জুলাই ২০২০ইং শুক্রবার “আজকের রিপোর্ট নামের অনলাইন ওয়েবপোর্টালের দেশজুড়ে পাতায়” “সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক শেরীন অবৈধভাবে সরকারী রাস্তার গাছ কর্তনের অভিযোগ” শীর্ষক শিরোনামে সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি আরিফুর রহমান মানিক প্রেরিত ও ২৫ জুলাই ২০২০ইং বেলা ২টা ১০ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে জনৈক আব্দুস সালাম কর্তৃক প্রিন্ট করে বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহকৃত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের অর্থ সম্পাদক মাহবুবুল হক শেরীন।

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি  মোঃ এমরান আল আমিন, সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মোফাজ্জল হোসেন বিপুল, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ মাহমুদুল হাসান বাবু, বার্তা সম্পাদক  মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, মফস্বল সম্পাদক : মো: ইয়াসিন আরাফাত শান্ত বরাবরে ই-মেইল : newsajkerreport@gmail.com নম্বরে ২৭ জুলাই ও ২৮ জুলাই ২০২০ইং তারিখে দুদফায় প্রতিবাদটি প্রেরণ করেন তিনি।

এতে লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৪ জুলাই ২০২০ইং শুক্রবার তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত আজকের রিপোর্ট অনলাইন ওয়েবপোর্টালের সংবাদটি মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন। আমার বিরুদ্ধে সংবাদটি প্রকাশ করা হলেও এতে আমার কোন বক্তব্যই নেয়া হয়নি। যা ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি সাংবাদিকের জন্য বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল প্রনীত আচরনবিধিরও বিরোধী।

প্রকাশিত অনলাইনের ভেতরে প্রবেশ করে কোন ডাক ঠিকানা না পেয়ে শুধুমাত্র ইমেইল আইডিতে উক্ত প্রতিবাদটি প্রেরণ করিলাম। প্রেরিত প্রতিবাদটি প্রকাশ করে তাকে অবহিত করার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান ।

প্রদত্ত প্রতিবাদে মাহবুবুল হক শেরীন বলেন, সিলেট শহরের আম্বরখানাস্থ আবাসন এসোসিয়েশন প্রাইভেট লিঃ ও ঠিকানা এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিঃ কোম্পানী  দুটির  চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করাকালীন জনৈক আব্দুস সালাম পিতা ইরশাদ মিয়া স্থায়ী ঠিকানা গ্রাম সুরিয়ারপাড়, ইউনিয়ন কুলঞ্জ, থানা দিরাই, জেলা সুনামগঞ্জ, হাইকোর্টের মহরী  ও সাংবাদিক পরিচয়ে আমাদের হাউজিং ব্যবসার মামলা মোকদ্দমা পরিচালনার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে আমার কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে ৩২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

আমাদের কাছে বিশ্বাস জন্মানোর লক্ষে আমি লন্ডনে থাকাবস্থায় সে মহামান্য হাইকোর্টের কিছু কাগজপত্র ইমেইলযোগে আমার কাছে প্রেরন করে। এক বছর পরে দেশে ফিরে বিজ্ঞ আদালতে সালামের দেয়া এই কাগজপত্রগুলো সাবমিট করে আমরা জানতে পারি এগুলো জাল কাগজপত্র । আমাদের ব্যবসায়ী কোম্পানীর সাথে পরিকল্পিত জালিয়াতি প্রতারনার কারণে বাধ্য হয়ে আমি বাদী হয়ে  গত ১৭/১০/২০১৭ইং বাংলাদেশ দন্ডবিধি আইনের ৪০৬/৪২০/৫০৬ ধারায় সিলেট কোতয়ালী থানায় উক্ত সালামের বিরুদ্ধে মামলা নং ২৫ (জি আর ৩৯১/২০১৭) দায়ের করলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট কোতয়ালী থানার সাব ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) শেখ মোঃ ইয়াছিন ভূইয়া বিপি নং ৭৪৯২০৪৫০৭৪  দীর্ঘ তদন্তের পর আসামী সালামের বিরুদ্ধে গত ৩১ জানুয়ারী অভিযোগপত্র নং ২৯/২০১৭ দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, আব্দুস সালাম একজন প্রতারক প্রকৃতির লোক। বিভিন্ন লোকজনের নিকট হতে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে টাকা পয়সা গ্রহনপূর্বক আত্মসাৎ করাই তাহার একমাত্র পেশা। তার বিরুদ্ধে দিরাই থানার মামলা নং ৩ (জি আর ৮৩/২০১৬) তাং ২/৬/২০১৬ ইং ধারা ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/১১৪ পেনাল কোড, দিরাই থানার মামলা নং ১০ (জি আর ১১০/২০০৯) তাং ১৪/৯/২০০৯ ইং ধারা ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/১১৪ পেনাল কোড, দিরাই থানার মামলা নং ৭ (জি আর-৬৮/২০০৬) তাং ২৭/৮/২০০৬ইং ধারা ১৪৩/৩২৩/৪৩৬/৪২৭/৩৪ পেনাল কোড রয়েছে।

আদালত মামলার একমাত্র আসামী সালামের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী ওয়ারেন্ট জারী করেন। ২০১৮ ইং সনের ২৭ নভেম্বর সোমবার বিকেলে জি আর ৩৯১/২০১৭ নং মামলায় আত্ম সমর্পণ করলে বিজ্ঞ আদালত আসামী আব্দুস সালামের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ এর নির্দেশ দেন। ঐ মামলায় প্রায় ৪ মাস কারাভোগ করে সালাম। বর্তমানে মামলাটি সিলেটের বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

মাহবুবুল হক শেরীন বলেন, প্রতারক আব্দুস সালাম শুধু আমাদের সাথেই প্রতারনা করেনি। সে সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ থেকে ২০০৩ ইং সনে বিএ পাশ করেছে মর্মে দাবী করে জাল সনদপত্র ও ভূয়া জীবনবৃত্তান্ত প্রেরন করে একুশে টেলিভিশনের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি পদে নিয়োগ লাভ করে। পরে স্থানীয় দৈনিক সুনামগঞ্জ প্রতিদিন পত্রিকা অনুসন্ধান করে জানতে পারে  বিএ পাশতো দূরের কথা সালাম এসএসসি পর্যন্ত পাশ করেনি। বাস্তবে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার রৌয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে ঐ প্রতারক।

এসএসসি পাশের সনদ  দিতে না পারায় তাকে সুনামগঞ্জ আইনজীবি সহকারী সমিতির সদস্যপদ হতেও অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সুনামগঞ্জ শহরের হাজীপাড়ায় অবস্থান করে ঐ প্রতারক সাংবাদিক ও মহরী পরিচয়ে জনসাধারনকে প্রতারিত করে যাচ্ছে। উদ্দেশ্যমূলক চাঁদাবাজীর অংশ হিসেবেই সে আমার বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশনের মিশন বাস্তবায়নে সক্রিয় রয়েছে।

মাহবুবুল হক শেরীন বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসির আরাফাত সরজমিনে তদন্ত করে জেনেছেন, পরিকল্পনা মন্ত্রী মহোদয়ের নির্বাচনী এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আমার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের সংযোগ নেয়ার জন্য খুটি পুতে নতুন লাইন টানা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংযোগ সাধনের স্বার্থে রাস্তার পাশে থাকা ছোট দুটি আগাছা জাতীয় গাছ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশে জনস্বার্থে কাটা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারী খাস জায়গার মধ্যে থাকা  খেটে ফেলা গাছ দুটি চেয়ারম্যান হিসেবে আমার জিম্মায় রেখে ভূমি অফিসের তহশীলদাররা নীলাম দিয়ে গাছের মূল্য বাবত পাওয়া ৩ হাজার টাকা সরকারী কোষাঘারে জমা দিয়েছেন। এখানে আমার কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।

তথাকথিত সংবাদে যেসব মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, আমি লন্ডনে থাকায় আমার ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে এই মামলাগুলোর উৎপত্তি হলে মামলাগুলো শেষ হয়ে গেছে এবং আমাকে জাল করা কাগজপত্র পাটিয়ে প্রতারক সালাম চক্র মামলাগুলো নিস্পত্তি করেছে বলে দাবী করে দফায় দফায় টাকা নেয়। দেশে ফিরে যখন আমি জানতে পারি এসব মামলাগুলো পেন্ডিং রয়েছে তখনই আমি মহামান্য হাইকোর্টের আশ্রয় নিয়ে একে একে সবগুলো মামলা নিস্পত্তি করি।

বিএনপি এবং জামাত সম্পৃক্ততার ব্যাপারে কথিত সংবাদে আমাকে নিয়ে হাস্যকর রচনা লেখা হয়েছে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। একাত্তরের ৩১ শে আগস্ট শ্রীরামসি গণহত্যার সময় আমার এক চাচাকে হত্যা করে পাঞ্জাবী ও তাদের দোসর রাজাকাররা। আমার আরেকজন চাচা ঐ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় কিছুদিন আগে মৃত্যুবরন করেছেন। বিগত ২০ বছর যাবৎ আমি জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী সদস্য এবং গত ৩ বছর  যাবৎ অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।

জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আমি  প্রার্থী হলে উক্ত সালাম কয়েকজন সংবাদকর্মীকে নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায় এবং আমার নির্বাচনী এলাকায় ঘরে ঘরে পেপার কাটিংসহ আপত্তিকর হ্যান্ডবিল বিলি করে। তারপরও আমি বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই।

নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উক্ত সালাম তার বিরুদ্ধে আমার দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য বিভিন্নভাবে আমাকে চাপপ্রয়োগ করে। আমি তাতে সম্মত না হওয়ায় জনস্বার্থে গাছ কাটার ঘটনা কে কেন্দ্র করে কুচক্রীমহলের ইন্ধনে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন ও একপেশে সংবাদ প্রকাশ করে রাষ্ট্র সমাজ, আইন ও জনগনের কাছে আমার ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানোর অংশ হিসেবে উক্ত আব্দুস সালাম ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের মুক্তিরগাঁও গ্রামের নুরুল হক এর পুত্র আরিফুর রহমান মানিক কে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে ফরমায়েসী সংবাদটি প্রকাশ করায়।

ঐ সংবাদের সংবাদদাতা ও এর সাথে জড়িত সম্পাদক প্রকাশকগন আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে আমার কোন বক্তব্যই নেননি।  কথিত সংবাদে আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোন বক্তব্যই সঠিক নয়। আমি উক্ত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

ফেসবুক কমেন্ট
%d bloggers like this: