সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা কৃষি ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক রিপনের বিরুদ্ধে কৃষকের সংবাদ সম্মেলন

আল-হেলাল, সুনামগঞ্জ: বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা শাখার ব্যবস্থাপক মো. রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর চাহিদা মাফিক ঘুষের অবশিষ্ট ১০ হাজার টাকা না দেওয়ায় তিনি স্থানীয় মো. সূরে আলম (৩৫) নামের এক কৃষককে মৎস্য চাষ খাতে প্রণোদনা ঋণ দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার বেলা পৌনে একটার দিকে ধর্মপাশা উপজেলা প্রেস ক্লাবের কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ওই কৃষক লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এই অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কৃষক মো.সূরে আলম উল্লেখ করেছেন, তাঁর বাড়ি সদর ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামে । তাঁদের সাতটি পুকুর রয়েছে। সম্প্রতি বন্যার কারণে তিনি ক্ষতিগ্রস্থ হন।

ধর্মপাশা কৃষি ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক রিপন
ধর্মপাশা কৃষি ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক রিপন

প্রায় দেড়মাস আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ধর্মপাশা শাখার ব্যবস্থাপক মো. রিপন সঙ্গে দেখা করেন এবং শতকরা ৪টাকা হারে প্রণোদনা ঋণ নেওয়ার জন্য জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ম্যানেজারের কাছে জমা দেন। আমি তিন লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার জন্য ব্যাংক ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলি। এই টাকা ঋণ দিতে হলে আমার কাছে এ বাবদ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন তিনি। আমি ধার করে এনে ১০হাজার টাকা দিই। বাকি টাকা পরে দেব বলে জানাই।

চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর ঋণ নং ১৩/২০-২১মূলে নথি নাম্মারে পুকুরে মৎস্য চাষ খাতে ২৩ সেপ্টেম্বর তিন লাখ টাকা ঋণের জন্য আমার আবেদনে সুপারিশ করে দেন পরিদর্শক বিকাশ রঞ্জন সরকার। ম্যানেজারকে ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি বিকাশ বাবুকে জানালে তিনি টাকা দিকে বারণ করেন। ঋণ মঞ্জুরের পূর্বে ব্যবস্থাপক মো. রিপন মিয়া ঘুষের অবশিষ্ট টাকা আমার কাছে চাহিলে বিকাশ বাবু আমাকে টাকা না দেওয়ার জন্য বলেছেন বলে ব্যবস্থাপককে জানাই।

এ কথা শুনে ব্যবস্থাপক আমার প্রতি রেগে যান এবং আমাকে পরে ব্যাংকে আসতে বলেন। বেশ কয়েকবার আমি ব্যাংকে গিয়ে যোগাযোগ করলে ব্যবস্থাপক নানা অজুহাত দেখানো শুরু করে সময় পার করছেন। টাকার অভাবে আমি মাছের খাবার দিতে না পারায় ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। ব্যবস্থাপক মো. রিপন মিয়া আমার কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করায় তাঁর বিরুদ্ধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণসহ হয়রানি ছাড়াই আমি ঋণ পাওয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জুবায়ের পাশা হিমু, সহ সভাপতি সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিন রানা, সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক এনাম, যুগ্ম সম্পাদক সেলিম আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক সোহান আহম্মেদ, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক শাকিল আহমেদ মুন, সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক সালেহ আহমদ, সাংবাদিক মোবারক হোসাইন প্রমুখ।

এ ব্যাপারে ম্যানেজার মো. রিপন মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কৃষক মো. সূরে আলমের কাগজপত্র সঠিক ছিল না। তাই আমি তাকে ঋন দেইনি। তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা গল্প সাজিয়েছেন।

অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনকারী মো. সূরে আলম চ্যালেঞ্জ করে বলেন, আমার কাগজপত্র সবকিছুই সঠিক। ম্যানাজার রিপন মিয়া ঋন দিতে সম্মত হয়েই আগাম ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করে আমার কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। তার দাবীকৃত আগাম ঘুষের বাকী ১০ হাজার টাকা না দেয়ায় তিনি এখন নানা টালবাহানা করছেন।

উল্লেখ্য, ম্যানাজার রিপন মিয়া ইতিপূর্বে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রুহুল আমিনের সাথে ব্যাংকের মধ্যেই খারাপ আচরন করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ দায়ের করলে নির্বাহী অফিসারের সামনেই মুক্তিযোদ্ধার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী হন ম্যানাজার রিপন মিয়া। ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে উপজেলা সদরে মানববন্ধনও করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

ফেসবুক কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: